আদাবরে গ্যাং সদস্যদের ত্রাস: মা-ছেলেকে মারধর, স্বর্ণালঙ্কার-টাকা লুট ও প্রাণনাশের হুমকি, শঙ্কায় পরিবার।
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-১২-২০২৫ ০১:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-১২-২০২৫ ০১:১৪:০৯ পূর্বাহ্ন
আদাবরে গ্যাং সদস্যদের ত্রাস
ডেক্স রিপোর্ট :
আদাবরে গ্যাং সদস্যদের ত্রাস: মা-ছেলেকে মারধর, স্বর্ণালঙ্কার-টাকা লুট ও প্রাণনাশের হুমকি, শঙ্কায় পরিবার।
আদাবর (ঢাকা): রাজধানীর আদাবর এলাকায় চিহ্নিত গ্যাং সদস্য ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির কতিপয় যুবকের হাতে মা ও ছেলে ভয়াবহ মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ঘটে যাওয়া এই সহিংস ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে পুনরায় হামলার শিকার হতে হয় এবং তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করা হয়। বর্তমানে এই গ্যাং সদস্যদের ক্রমাগত হুমকি-ধামকিতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও বেধড়ক মারধর
অভিযোগকারী শান্তি বেগম (৫২), যিনি মেহেদীবাগ হাউজিংয়ের ৪ নং রোডের বাসিন্দা, আদাবর থানায় দায়ের করা এক অভিযোগে জানান, গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলে তার ছেলে শাকিলকে (২১ নং বিবাদী) কবির নামক এক যুবক শ্যামলী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন আর.এফ.এল শরুমের পাশের ফুটপাতের দোকানে ডেকে পাঠায়। শান্তি বেগম ছেলের পিছু পিছু ঘটনাস্থলে যান। সেখানে কবিরের সাথে তার ছেলের কথাকাটাকাটি হয়। এরপর ২১ নং বিবাদী কবির মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মূল অভিযুক্ত হেলাল আহম্মেদ রাজু (বিবাদী ১) কে ফোন করে জানায় যে, শাকিল তাকে গালাগাল করেছে।
শান্তি বেগমের অভিযোগ, এই মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে মুহূর্তের মধ্যে রাজু সহ তালিকাভুক্ত অন্যান্য বিবাদী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী ঘটনাস্থলে এসে তার ছেলেকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে শান্তি বেগমকেও সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারধর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার হাত থেকে একটি স্বর্ণের আংটি ও গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি ফোন, আইডি কার্ড সহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে শান্তি বেগম গুরুতর আঘাতে অচেতন হয়ে পড়লে বিবাদীরা তার ছেলে শাকিলকে রাস্তার মাঝখানে টেনে নিয়ে গিয়ে আরও মারধর ও জখম করে।
রাতে পুনরায় হামলা ও লুটপাট
মারধরের পর মেজো ছেলে রাকিব হোসেন বিশাল এসে তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ওই ঘটনার দিন রাতেই আনুমানিক রাত ১০:৩০ ঘটিকার দিকে রাকিব হোসেন বিশাল ঢাকা হাউজিং এলাকায় ১৯ নং বিবাদী (সোরাব ওরফে আলীর ম্যানেজার)-এর দেখা পেলে মারধরের কারণ জানতে চান। এতে ১৯ নং বিবাদী ও তার সহযোগীদের সাথে বিশালের হাতাহাতি হয়।
এরপর রাত আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকার সময়, পূর্বের সকল সন্ত্রাসী শান্তি বেগমের ছোট ছেলে শাকিলের বাসায় হানা দেয়। এ সময় শাকিল বাসায় না থাকলেও তার নবাগত স্ত্রী একা ছিলেন। বাসাটির ম্যানেজার বারণ করা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা জোর করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ঘরের সকল জিনিসপত্র তছনছ করে। শাকিলের স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে আলমারি খুলে নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকারও অধিক অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশু ও প্রতিবন্ধী নাতির ওপরও হামলা
লুটপাটের সময় শান্তি বেগমের বড় মেয়ে নিপা, তার ছোট ১ বছরের ছেলে এবং ১৯ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও মারধর করে। শান্তি বেগম জানান, ছোট এক বছরের নাতীর নাক-মুখে এখনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বর্তমানে বিবাদীরা প্রতিনিয়ত ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। উল্টো, সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাও দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শান্তি বেগম ও তার পরিবার নিজেদের জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদাবর থানার প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স